নিজস্ব প্রতিবেদক,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক শক্তিতে লড়াই করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। দীর্ঘ দরকষাকষি শেষে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে জোটের শরিকরা। সমঝোতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৭৯টি আসনে লড়বে জামায়াতে ইসলামী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০টি আসন পেয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে এই আসন সমঝোতার ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তবে শরিক তিন দল—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আসন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জোট।
কোন দল কত আসন পেল ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়, ইসলামপন্থী ও সমমনা দলগুলোর এই জোটে আসন ভাগাভাগিতে জামায়াতের একচ্ছত্র প্রাধান্য বজায় রয়েছে। শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে আসন পেয়েছে।
ডা. তাহের জানান, যে দলগুলো সমঝোতায় উপস্থিত ছিল তাদের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বরিশাল বিভাগের ১১ আসনে ধোঁয়াশা নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বরিশাল বিভাগের ১১টি আসনে জোটের কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। বিশেষ করে বরিশাল সদর-৫ (সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে সমঝোতা না হওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া আসনগুলো হলো: বরগুনা-১, পটুয়াখালী-৩ ও ৪, ভোলা-১ ও ৪, বরিশাল-১, ২, ৫ ও ৬, ঝালকাঠি-২ এবং পিরোজপুর-৩।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান থাকা এসব আসনে সমঝোতা না হওয়ায় মূলত প্রার্থী তালিকা ঝুলে আছে। চরমোনাই পীরের দলটির জন্য জোটের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের কারণে তারা বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল না।
জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলমান। আমরা প্রত্যাশা করি, তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা নির্বাচনে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে পারব।”