মহিপুর/কুয়াকাটা প্রতিনিধি,
পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরে ‘সী কুইন’ হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও ৩টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দুটি খাবার হোটেল, দুটি কাপড়ের দোকান, একটি মুদি-মনোহরী দোকান, একটি ঝিনুকের দোকান, স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত একটি জেনারেটর ঘর ও একটি চায়ের দোকান ভস্মীভূত হয়। সকালে অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। একটি কক্ষে অবস্থানরত ব্যক্তিরা নিরাপদে বের হতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম ও স্থানীয়দের দাবি:
খবর পেয়ে কলাপাড়া থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খবর দেওয়ার দীর্ঘ সময় পর ফায়ার সার্ভিস পৌঁছেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কুয়াকাটায় নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের কলাপাড়া থেকে ইউনিট আসতে বিলম্ব হয়েছে। পর্যটন শহরের গুরুত্ব বিবেচনায় কুয়াকাটায় একটি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্ত:
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। কেউ ধারণা করছেন শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের একটি কক্ষে সংরক্ষিত সামগ্রী থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে; আবার কেউ মনে করছেন পাশের খাবার হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং আশপাশের দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে সাহায্য করেন। ইতিমধ্যেই কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ ও মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, "সকাল ৮টার দিকে খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নিশ্চিতভাবে জানানো সম্ভব হবে।"