নিজস্ব প্রতিবেদক,
নাগরিক সংবাদ ডেস্ক বরিশাল বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৯ নং ওয়ার্ড কাশিপুর এলাকায় ইটের ব্যবসার নামে বিনিয়োগ নেওয়ার পর টাকা আত্মসাৎ ও চেক দিয়ে টাকা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নিয়াজ মোহাম্মদ রনি অভিযোগ করেন, ২০১২ সালে স্থানীয় জমির দালাল বাবুল সিকদারের প্ররোচনায় তিনি ইটের ব্যবসায় মূলধন হিসেবে এককালীন ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন।
লিখিত প্রত্যয়ন অনুযায়ী, উক্ত টাকা বছরে মূলধনের চার ভাগের এক ভাগ লাভে বিনিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধে একটি চেক প্রদান করেন এবং বাকি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধের অঙ্গীকার করেন।বাবুল সিকদার অগ্রণী ব্যাংকের কাশিপুর শাখার চেকে তখন তারিখও বসিয়ে দেন অপকৌশল করে।
ভুক্তভোগীর দাবি, চেক প্রদানের সময় অভিযুক্ত স্বীকার করেন যে তার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ নেই, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা করবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেননি এবং কোনো হিসাবও দেননি।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বসানো হলেও সেখানে ভুক্তভোগী পক্ষকে প্রতিনিধি মনোনয়নের সুযোগ দেওয়া হয়নি। সালিশের সময় ভুক্তভোগীর কাছে থাকা চেক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এক শালিসদারের জিম্মায় রাখা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন পর এসব কাগজপত্র ফেরত চাইলে সংশ্লিষ্ট শালিসদার রফিকুল ইসলাম সবুজ সেগুলো হারিয়ে গেছে বলে জানান এবং এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪০৯) করেন। এরপর জাতীয় আইন সহায়তার নিয়ম অনুযায়ী এডিআর করলে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েও এ পর্যন্ত টাকা দেননি প্রতারক বাবুল।
ভুক্তভোগী নিয়াজ মোহাম্মদ রনি জানান, “বছরের পর বছর ধরে আমার মূলধন আটকে রয়েছে। এতে আমি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন ও পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এই বাবুল সিকদার সাবেক চেয়ারম্যান আলী র নাম সামনে রেখে বরিশালের বিভিন্ন স্থান থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন ইটভাটা তৈরি ও তাতে বিনিয়োগের নামে, বেশ কিছুদিন পলাতকও ছিলেন টাকা দেয়ার ভয়ে। বাবুল সিকদার নিজেকে আলী চেয়ারম্যান এর পালিত সন্তান বলে পরিচয় দেন।পরে স্থানীয় তৎকালীন ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামিলীগ নেতা জাহাঙ্গীর এর শেল্টারে এলাকায় ফেরত এসে কিছু লোককে টাকা দিলেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বহু বিনিয়োগকারীদের টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুল সিকদার এর সাথে যোগাযোগ করতে তার বাসায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ছবি: তৈরিকৃত প্রতিকি ছবি