ঘুষের বিনিময়ে বদলি: খাদ্য সচিবের মৌখিক নির্দেশ উপেক্ষা করে বরিশালে লঙ্কাকাণ্ড
বরিশাল খাদ্য বিভাগে বদলি-বাণিজ্য ও দুর্নীতির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সদ্য বদলি হওয়া খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার এর সুস্পষ্ট মৌখিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে পটুয়াখালী ধুমকী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী খাদ্য পরিদর্শক শান্তি রঞ্জন দাসকে সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সরাসরি স্বাক্ষরে এই আদেশ জারি এবং তা গোপন রাখার ঘটনায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে খাদ্য সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার মৌখিকভাবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (আরসি ফুড) খাদ্য গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) হিসেবে কাউকে পদায়ন না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এই নির্দেশনা জারির মাত্র একদিন পরেই অর্থাৎ ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আঃ কাদের ০৭ নং স্মারকে আওয়ামী লীগকে পূর্নবাসন করতে আমতলীতে কর্মরত খাদ্য পরিদর্শক শান্তি রঞ্জনের বদলি আদেশ জারি করেন।অভিযোগ উঠেছে,জ্যেষ্ঠত , দক্ষতা বিবেচনায়া না নিয়ে, বদলির আবেদন না করা সত্বেও ছাত্রলীগ কর্মী শন্তি রঞ্জন দাসকে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের বিনিময়ে তাকে খেপুপাড়া খাদ্য গুদামে বদলি করা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পদায়ন দাপ্তরিক ‘ডি-নথি’র (উরমরঃধষ ঘড়ঃযর) মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম থাকলেও, এই ক্ষেত্রে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সরাসরি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আদেশটি জারি করেন। অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে জারি করা এই আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দপ্তরেও বিতরণ করা হয়নি। জানা গেছে, খেপুপাড়া খাদ্য গুদামে বদলি হওয়ার জন্য অন্তত ৫ জন খাদ্য পরিদর্শক আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাদের আবেদন অগ্রাহ্য করে শুধুমাত্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শান্তি রঞ্জনকে সেখানে পদায়ন করায় বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, সৎ ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে পকেট ভারী করতেই এমন লুকোচুরি করা হয়েছে।দুর্নীতির এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদ্য বদলি হাওয়া খাদ্য সচিব মোঃ ফিরোজ সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (বরিশাল) মোঃ আঃ কাদেরকেও একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। অর্থের বিনিময়ে বদলি পাওয়া আলোচিত খাদ্য পরিদর্শক শান্তি রঞ্জনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি “একটি অনুষ্ঠানে আছেন” বলে তড়িঘড়ি করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। খাদ্য মন্ত্রনালয়ের ১৪-১২-২০২২ খ্রি: তারিখের ৫০৯ নংস্মারকের বদলি নীতিমালা ২০১৯ (সংশোধিত-২০২২) এর ৩নং ক্রমিকের নিদের্শ উপেক্ষা করে খাদ্য বিভাগের মতো সংবেদনশীল দপ্তরে সচিবের নির্দেশ অমান্য করে এমন নজিরবিহীন বদলি বাণিজ্যের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তা ও সচেতন মহল।