একজন ফজলে রাব্বি এবং কিছু অপ্রিয় সত্য
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
আজ কলেজে তার জন্য শোকসভা হবে, কালো ব্যাজ পরা হবে, মাইকে মায়াকান্না হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বন্যা বইবে। এটাই নিয়ম।
কিন্তু এই অপ্রিয় সত্যটা কয়জন মনে রাখবে?
এই কলেজ, এই ক্যাম্পাসই একদিন এই মানুষটাকে পথে বসিয়েছিল। আমার স্পষ্ট মনে আছে, শুধুমাত্র সৎ থাকার অপরাধে, প্রিন্সিপাল আর তার সচিব বন্ধুদের ইশারায় তাকে জোর করে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
সেদিন তার পাশে কেউ ছিল না। একজনও না।
যে মানুষটা কলেজকে নিজের পরিবার ভেবেছিল, সেই মানুষটার ঘরেই সেদিন তার স্ত্রী সন্তানের খাবার জোটেনি। ক্ষমতার দাপটে একজন সৎ শিক্ষকের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন ছিল।
সেদিন আমরা মুখ ফিরিয়ে নিইনি। সেদিন আমাদের বাসাই ছিল তার শেষ আশ্রয়। তার চোখের পানি আমি নিজে দেখেছি। তার পুনরায় জয়েন করা থেকে শুরু করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিটা ব্যবস্থা আমি নিজে করেছি। কারণ আমি জানতাম, লোকটা সৎ। লোকটা নির্দোষ।
আজ তিনি ইতিহাস হয়ে গেলেন।
ফজলে রাব্বি স্যার হয়তো সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েই চলে গেলেন, কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। পাতারহাটের মাটি এই অপ্রিয় সত্য মনে রাখবে যে, আমরা একজন সৎ শিক্ষককে তার প্রাপ্য সম্মান জীবদ্দশায় দিতে পারিনি।
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন স্যার। যে সম্মান এই দুনিয়া আপনাকে দেয়নি, আল্লাহ আপনাকে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি সম্মান দিন।
আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিয়েন।