উত্তাল দিল্লি, বিশেষ ঘোষণা মোদির
অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
উত্তাল দিল্লি, বিশেষ ঘোষণা মোদির
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, দেশের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চলমান আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিরোধী দলগুলোও এ ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হওয়ার একদিন পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।