নুরুল্লাহ সিকদার
বরিশালের বানারীপাড়া নূরানী প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে আলোচনা সভা, গজল পরিবেশন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহর পরিচালনায় এবং মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব মো. তোফাজ্জেল হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদ্রাসার সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ও আলহাজ্ব মো. আ. আউয়াল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা পবিত্র কোরআন থেকে মনোমুগ্ধকর কেরাত ও ইসলামী গজল পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
আলোচনা সভায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবন, আদর্শ, মানবিকতা ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মো. এনামুল কবির, ইমাম ও খতিব, বানারীপাড়া উপজেলা জামে মসজিদ। দোয়া ও মোনাজাতে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের কল্যাণ কামনা করা হয়।
এ সময় মাদ্রাসার অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মাদ্রাসাটির জন্য একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি জানান। তারা বলেন, স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “মাদ্রাসার স্থায়ী ভবনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা যে দাবি জানিয়েছেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য যা কিছু করা দরকার, ইনশাআল্লাহ আমি আপনাদের সঙ্গে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। মাদ্রাসার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু মানুষের কল্যাণে করা ভালো কাজ থেকে যায়। এই মাদ্রাসার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অসংখ্য শিক্ষার্থী দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করলে, ইনশাআল্লাহ এই মহৎ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত থাকবেন, তাদের জন্যও এটি সদকায়ে জারিয়ার একটি মাধ্যম হতে পারে। তাই এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ভবন নির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
সভাপতির এমন আশ্বাসে উপস্থিত অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা মাদ্রাসার স্থায়ী ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।