নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: নলছিটি পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেনকে মারধরের ঘটনায় দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে একজন হলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সোহেল খান এবং অন্যজন যুবদল নেতা সাহা ফরিদ। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আবুল হোসেন জানান, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি পৌরসভার অফিসে জেলেদের চাল বিতরণের স্লিপ লিখছিলেন।
এমন সময় সোহেল খান ও সাহা ফরিদ তার অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে। এতে তার ডান চোখের পাশ ফেটে যায় এবং চারটি সেলাই পড়ে। তিনি দাবি করেন, হামলার পুরো ঘটনা পৌরসভার সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ ঠিকাদারি নীতিমালা অনুসারে হয়নি, যার কারণে সংশ্লিষ্ট বিল অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা আবুল হোসেনের ওপর হামলা চালায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা বলেন, "কিছু বিশেষ গোষ্ঠী পৌরসভার কাজে অনিয়মের সুযোগ নিতে চায়। আগেও আওয়ামী লীগের আমলে এখানে লুটপাটের অভিযোগ ছিল, এখন আবার নতুন করে এমন ঘটনা ঘটছে।" নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল সালাম বলেন, "আমাদের কাছে যদি কোনো লিখিত অভিযোগ আসে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তবে এখন পর্যন্ত পৌরসভা বা আবুল হোসেনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নলছিটি পৌরসভা এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। অনেকের মতে, পৌরসভার উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের হামলার বিচার হওয়া জরুরি।
পৌরসভার কর্মকর্তারা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, নিরাপত্তা জোরদার করে পৌরসভার চলমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা এখন সকলের নজরে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।