নিজস্ব প্রতিবেদন,
বরিশালের গৌরনদীতে কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এনাম তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর এনাম ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রসহ ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি ভুক্তভোগী (২৫), বরিশালের খাঞ্জাপুর গ্রামের এক কাতার প্রবাসীর স্ত্রী, জানান — তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় ছাত্রদল নেতা এনাম তালুকদার তাকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি প্রস্তাবে রাজি না হলে এনাম টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে এলাকায় বসবাস করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কালকিনি উপজেলার কুন্ডুবাড়ি মেলায় আসবাবপত্র কেনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে খাঞ্জাপুর এলাকায় পৌঁছালে এনাম তালুকদার তার পথরোধ করে পুনরায় কুপ্রস্তাব দেন। অস্বীকৃতি জানালে এনাম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে টানাহেঁচড়া ও শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও ব্যাগে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, এসময় এনামের সহযোগী কাওসার তালুকদার ও আকাশ ফকিরসহ আরও পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। নির্যাতনের সময় তার কোলে থাকা ২২ মাস বয়সী শিশুও আহত হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ভুক্তভোগী জানান, “আমি রাতেই থানায় অভিযোগ করার পর এনাম ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়। আজ সকালেও তারা গালাগাল করেছে। আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা এনাম তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাবে।”
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) তৌফিকুল ইসলাম ইমরান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”