নিজস্ব প্রতিবেদন,
বরিশালের গৌরনদীতে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে হামলার ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামে কালাম ফকির ও লুৎফর শিকদারের মধ্যে জমির সীমানা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হন। আহত কালাম ফকিরের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও লুৎফর শিকদারকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালাম ফকিরের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কালাম ফকিরের ছেলে আরাফাত ফকির জানান,“মা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বার্থী ইউনিয়ন যুবদল নেতা কাইয়ুম খানের নেতৃত্বে ১০–১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমি, বাবা, মা ও দুই বোনসহ মোট পাঁচজন আহত হই।”
কালাম ফকিরের মেয়ে তানিয়া বেগম বলেন,“হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে আমরা হাসপাতালের বাথরুমে আশ্রয় নিই। কিন্তু কাইয়ুম খান ও তার সহযোগীরা দরজা ভেঙে আমাদের টেনে বাইরে এনে মারধর করে। হামলাকারীরা হাসপাতালের জানালার কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে।”
ঘটনার খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন,
“লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত বার্থী ইউনিয়ন যুবদল নেতা কাইয়ুম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম।”তবে স্থানীয়দের ভাষ্য ও প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজে হামলার সময় কাইয়ুম খানকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহিন বলেন,“আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেউ গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।”
এদিকে সরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরে সংঘটিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।