• ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজলায় টয়লেট ট্যাংকিতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: শীর্ষ সন্ত্রাসীর জামিন ঘিরে নতুন প্রশ্ন

Khan Arif
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২৬, ২১:৪১ অপরাহ্ণ
হিজলায় টয়লেট ট্যাংকিতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: শীর্ষ সন্ত্রাসীর জামিন ঘিরে নতুন প্রশ্ন

হিজলা (বরিশাল) প্রতিনিধি,

বরিশালের হিজলা উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ভবনের টয়লেটের ময়লার ট্যাংকির ভেতর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত যুবকের নাম মনির রাড়ী (২৫)। তিনি উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের ধুলখোলা গ্রামের সুলতান রাড়ীর ছেলে।

 

সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা প্রায় ১২টার দিকে ধুলখোলা বাজার সংলগ্ন পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি পরিত্যক্ত ভবনের বাথরুমের ট্যাংকির ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে হিজলা থানা পুলিশ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টয়লেটের ট্যাংকির ঢাকনা দিয়ে মরদেহটি ঢেকে রাখা হলেও ভেতরে জায়গা কম থাকায় ঢাকনাটি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। ফলে উপরের অংশে সামান্য ফাঁক দেখা যায়। সকালে পার্শ্ববর্তী বাড়ির কয়েকজন শিশু পাতা কুড়াতে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত মনির রাড়ীকে রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলেও ধুলখোলা বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তার বাড়িও বাজারের পাশেই।

 

এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ঘটনার দিনে জামিনে মুক্তি পাওয়া এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে এই ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকতে পারে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি হিজলা সেনা ক্যাম্পের নেতৃত্বে একটি অভিযানে ধুলখোলা ইউনিয়নের মাটিয়ালা এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে লিটন রাড়ীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নগদ ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩০ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, জাল নোট, ১৪৬ পিস ইয়াবা, প্রায় ২৫০ গ্রাম মাদক, ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৫ লাখ টাকার চেক এবং দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের হিজলা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মামলার প্রধান আসামি লিটন রাড়ী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়াও লিটন রাড়ী বহুল আলোচিত ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নান্টু মেম্বার হত্যাকাণ্ডের মামলার ২ নম্বর আসামি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউপি সদস্য নান্টু মেম্বারকে—যা সে সময় পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

 

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, ওই দিন জামিনে মুক্তি পেয়ে রবিবার (১৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে একটি স্পিডবোট থেকে নামতে দেখা যায় লিটন রাড়ীকে। ওই সময় একই স্থানে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকতে দেখা যায় নিহত মনির রাড়ীকেও।

 

স্থানীয়দের দাবি, নিহত মনির রাড়ীর বিরুদ্ধেও গরু চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগতের নানা ঘটনায় লিটন রাড়ীর সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল।

 

উল্লেখ্য, ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত অভিযানের তথ্য সে সময় হিজলা উপজেলার বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী তাদের নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, ওইসব পোস্ট অনেকেই নিজেদের ফেসবুক থেকে মুছে ফেলেছেন। এ বিষয়ে একাধিক সংবাদকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

 

এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীর হুমকি ও এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল ইসলাম বলেন,

“খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত আমরা হত্যাকারী শনাক্ত করতে পারিনি।”

 

তিনি আরও বলেন,

“শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

 

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো ধুলখোলা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....