• ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রখর রোদ ও বিদ্যুৎ সংকটে দিশেহারা বরিশালবাসী, ঝুঁকিতে ফসল ও জনস্বাস্থ্য

Khan Arif
প্রকাশিত এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১৮:৩২ অপরাহ্ণ
প্রখর রোদ ও বিদ্যুৎ সংকটে দিশেহারা বরিশালবাসী, ঝুঁকিতে ফসল ও জনস্বাস্থ্য

অব্যাহত তাপপ্রবাহে পুড়ছে সমগ্র বরিশাল অঞ্চল। গত ১৫ দিনেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি, আর এরমধ্যেই তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওপরে উঠে গেছে। তীব্র এই গরমের সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ ঘাটতি, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট ও কৃষি বিপর্যয়ের শঙ্কা

বরিশাল অঞ্চলে প্রতিদিন ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে গত ১৫ দিন ধরে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না। এই অব্যাহত বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। মাঠের প্রায় ৪ লাখ হেক্টর বোরো ধানসহ রবি ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

 

 

​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, পুরো মে মাস জুড়ে জমিতে দেড় থেকে ২ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে। কিন্তু সেচ পাম্পগুলো সচল রাখার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া, সেচকাজে ব্যবহৃত প্রায় ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্পের মধ্যে ৭৪ হাজারই ডিজেল চালিত। এসব পাম্পের জন্য দৈনিক ৫ লক্ষাধিক লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও সরবরাহ নির্বিঘ্ন নয়, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হামের প্রকোপ

তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২১০০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং মারা গেছে ১৭টি শিশু। হাসপাতালগুলোতে অসুস্থ রোগীদের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

 

 

জেলে ও কৃষি শ্রমিকের কর্মহীনতা

প্রখর রোদ ও তাপের কারণে কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা মাঠে নামতে পারছেন না। একই অবস্থা জেলেদের ক্ষেত্রেও; মাছ ধরতে নদীতে নামার সাহস পাচ্ছেন না তারা। ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

তীব্র দাবদাহ নিয়ে কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী সোমবারের পর থেকে বরিশাল অঞ্চলের দু-এক জায়গায় বৃষ্টিসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে তার আগে শনি ও রবিবারও তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মার্চ মাসে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৪৯ ভাগ। চলতি মাসে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....