
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ডিএমপির নির্দেশ অমান্য করে আতশবাজি ফোটানোর ঘটনায় রাজধানীর মিরপুরে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে মিরপুর-৭ এলাকার একটি ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশের বহুতল ভবনের একাংশে আগুন জ্বলছে এবং আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের বেলা আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর সময় হঠাৎ করেই ভবনের একপাশে আগুন ধরে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ফোটানো আতশবাজির আগুন থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। এই শোক পালন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নগরবাসীর জন্য একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, শোককালীন সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, র্যালি কিংবা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না। পাশাপাশি উচ্চশব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো কিংবা গণ-উপদ্রব সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকেও সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬ সালকে বরণ করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাত ১২টার আগেই আতশবাজি, পটকা ফোটানো এবং ফানুস ওড়ানোর ঘটনা ঘটে। মিরপুরের অগ্নিকাণ্ড সেই অবাধ্যতারই একটি ভয়াবহ উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরবাসীর একটি অংশ মনে করছেন, শোকের সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।