বরিশাল টিটিসিতে দুই দশক ধরে একই পদে শিক্ষকরা: সিন্ডিকেট ও হয়রানির অভিযোগ

Khan Arif
প্রকাশিত January 25, 2026, 19:36 PM
বরিশাল টিটিসিতে দুই দশক ধরে একই পদে শিক্ষকরা: সিন্ডিকেট ও হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,

​বরিশাল | ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬: সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলে বদলির বিধান থাকলেও, বরিশাল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) তা মানা হচ্ছে না। কয়েকজন প্রশিক্ষক চাকরির শুরু থেকে অর্থাৎ দীর্ঘ ২১ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। এমনকি বর্তমান অধ্যক্ষও গত সাত বছর ধরে এখানে বহাল তবিয়তে আছেন। দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার সুবাদে তারা একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​সিন্ডিকেটের কবলে প্রশিক্ষণার্থীরা:

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে তারা একপ্রকার জিম্মি। কোনো অন্যায় বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে কোর্স ফির টাকা না দিয়ে উল্টো প্রশিক্ষণার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। সিন্ডিকেটের সঙ্গে আপস না করলে তাদের সুবিধাবঞ্চিত করে একঘরে করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

​দীর্ঘকাল কর্মরতদের তালিকা:

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চে বরিশাল টিটিসিতে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন প্রকৌশলী মো. গোলাম কবির। যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ।

​প্রশিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৯৩ সাল থেকে (৩৩ বছর)

​ফিরোজ হোসেন খান ১৯৯৪ সাল থেকে (৩২ বছর)

​খান মাহবুব হোসেন ১৯৯৫ সাল থেকে (৩১ বছর)

​আনোয়ার হোসেন, বিলকিস আরা বেগম ও নমিতা রানী ২০০১ সাল থেকে (২৫ বছর)

​প্রশিক্ষক লায়লা আফরো ২০০৩ সাল থেকে

​গণিত শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ২০০৪ সাল থেকে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

​এছাড়া মো. মাহমুদ হোসেন ২০২১ এবং শিহাবুর রহমান গাজী ২০২২ সাল থেকে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

​অভিযোগ ও অব্যবস্থাপনা:

অভিযোগকারীরা জানান, অধ্যক্ষ মো. গোলাম কবিরের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ২০ জন প্রশিক্ষকের মধ্যে ৭-৮ জন মিলে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নিয়মের চেয়ে এই চক্রের ইচ্ছা অনুযায়ীই বেশি চলে। দীর্ঘদিন এক জায়গায় থাকার ফলে তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার অভাব তৈরি হয়েছে। কোনো বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না বলে প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি।

​অধ্যক্ষের বক্তব্য:

এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. গোলাম কবির বলেন, “আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশিক্ষণার্থী সরাসরি অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” দীর্ঘদিন একই স্থানে চাকরি করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এটি কর্তৃপক্ষের বিষয় এবং এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....