বরিশাল বোর্ডের আট কলেজে এবারও একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী।

Khan Arif
প্রকাশিত October 1, 2026, 17:35 PM
বরিশাল বোর্ডের আট কলেজে এবারও একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ আটটি কলেজে চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে এসব কলেজের যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হতে না পারা, শিক্ষক সংকট, স্থানীয় কোন্দলসহ নানা জটিলতায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এমপিওর আশায় বিনা বেতনে যোগ দেওয়া শিক্ষকেরা একপর্যায়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ায় এসব কলেজে পাঠদান স্থবির হয়ে পড়ে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী না পাওয়া আটটি প্রতিষ্ঠান হলো— ১. বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ২. বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩. ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৪. পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জলাবাড়ী আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৫. সেহাঞ্জল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৬. কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ইজিএস শিক্ষা নিকেতন, ৭. পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নের পাজালিয়া কলেজ, ৮. গলাচিপার পানপট্টি কলেজ। এর মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল এবং বাকি তিনটি কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটি টানা কয়েক বছর চালু থাকার পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাঠদান বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি—শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং স্থানীয় দলীয় কোন্দলের কারণেই কলেজগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাঠদানের অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হলেও বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তালিকায় তথ্যের হালনাগাদ না থাকায় চলতি বছরও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীশূন্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানভেদে সংকট ও বন্ধ হওয়ার ধরণ ভিন্ন। বেতাগীর ‘কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’ ২০১৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হলেও শ্রেণীকক্ষ সংকটে ২০২৪ সালে কলেজ শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পিরোজপুরের কাঁঠালিয়া ও সেহাঞ্জল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখাও শিক্ষক সংকট ও অর্থায়নের অভাবে পাঠদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতন স্থানীয় কোন্দলের কারণে এবং পটুয়াখালীর পাজালিয়া কলেজ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন এসব শিক্ষার্থীশূন্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....