
স্টাফ রিপোর্টার::: বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘুসগ্রহণের ভিডিও নিয়ে কথা হলে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘুসগ্রহণে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমার নীতি জিরো টলারেন্স।
এদিকে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওগুলো হচ্ছে উপজেলার চরামদ্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিস,দাড়িয়াল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত কর্মচারীদের। অভিযোগ রয়েছে দাড়িয়াল ইউনিয়ন চরামদ্দী ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নুরুন্নাহার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার কারণে এখানকার ভূমি অফিসের কর্মচারীরা নিজেদেরকে সহকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন!অফিস সহায়ক হেলাল উদ্দিন ও রিয়াজ এখানে কাজের ধরন ও জমির পরিমাণ অনুযায়ী ঘুষের হার নির্ধারণ করছেন। উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামের সেবাগ্রহীতা আনসার আলী হাওলাদার বলেন, আমি আগে ২টি দলিল রেকর্ড করে নিয়েছি।
প্রথমে ২টি দলিল রেকর্ড বাবদ হেলাল আমার কাছে ৯ হাজার টাকা দাবী করে। একপর্যায়ে রিয়াজের মধ্যস্থতায় ৬ হাজার টাকায় জমি রেকর্ড করেছি। আমার আরও একটি দলিল রেকর্ড করতে হবে। হেলালকে দিয়ে আর জমির রেকর্ড করবো না। কারণ হেলাল জমি রেকর্ড বাবদ বেশি টাকা দাবি করে। তবে অফিস সহকারী রিয়াজ কম টাকার বিনিময়ে জমি রেকর্ড করে দেয়।
জানা গেছে, এই অফিসের কর্মচারী রিয়াজ কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হলেও ঘুরেফিরে একই জাগায় বহাল থাকেন। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে কথা হলে অফিস সহায়ক রিয়াজ বলেন, ২০০/৩০০ টাকা সইমোহর পর্চা বাবদ নিয়ে থাকি। এখানে তেমন জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ হয়না। টাকা না নিলে খাবো কি করে? কথা হলে অফিস সহায়ক হেলাল উদ্দিন বলেন,ভূমি সহকারি কর্মকর্তা তাসলিমা আপা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছে।
বিগত ২০ বছর যাবত আমি এখানে কর্মরত। সহকারি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে আমরা মোটামুটি কাজ করে থাকি। সহকারি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কিভাবে আপনারা খাজনার রশিদ দিয়ে থাকেন? এমন প্রশ্নের জবাবে চুপসে যান হেলাল। এদিকে চরামদ্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় আরিফ নামে এক দালাল তার নিজস্ব ল্যাপটপ নিয়ে জমাখারিজের কাজ করার জন্য দোকান খুলে বসেছে।
অভিযোগ উঠেছে এখানকার ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে এসব অপকর্ম করছে দালাল আরিফ। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে দালাল আরিফ বলেন, আপনারা (সংবাদকর্মীরা) যদি বলেন, তাহলে আমি এই ভূমি অফিসে আর ল্যাপটপ নিয়ে জমিজমা সংক্রান্ত কাজ করবো না। পত্রিকায় এসব নিয়ে দয়া করে লেখালেখি করে আমার ক্ষতি করবেন না।
অন্যদিকে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়,লুঙ্গি পরিহিত কর্মচারী আব্দুর রহিমকে। আব্দুর রহিম সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণ করছে। ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতারা এসব ভোগান্তি থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।