
প্রতিনিধি:মোঃ জামাল হোসেন খান,
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ে এবং নির্যাতিত ও নিপীড়িত সাংবাদিকদের পাশে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভা উপলক্ষে সিলেটে এক শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
শোভাযাত্রাটি আহমেদ আবু জাফরের নেতৃত্বে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হযরত শাহজালাল (রা.)-এর মাজারে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে মাজার জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত শেষে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার বিতরণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এবং জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আহমেদ আবু জাফর বলেন, “সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিএমএসএফ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ে বদ্ধপরিকর। মফস্বল সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। রাজধানীর বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আপনারা তুলে ধরেন, যা জাতির বিবেককে জাগ্রত করে। নানা সীমাবদ্ধতা, ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আপনারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন; এজন্য আপনাদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। পেশাগত নিরাপত্তা, তথ্য প্রাপ্তির স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল পরিবর্তনের এই সময়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করা সহজ নয়। এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক ঐক্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত প্রয়োজন। আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন এবং বিএমএসএফ-এর ১৪ দফা দাবি আদায়ে সচেষ্ট থাকবেন।”
আহমেদ আবু জাফর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
তিনি ট্রাস্টের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, “ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো সমাজের কল্যাণে কাজ করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে মানবিক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখা। আমরা বিশ্বাস করি গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। আপনারাই আমাদের কাজের সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরেন, যা আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করে। আমাদের সকল কার্যক্রমে আমরা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।”
সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতার গুরুত্বারোপ করে বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে আমাদের গৃহীত উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। যেকোনো তথ্য যাচাইয়ের জন্য আপনারা আমাদের পাশে পাবেন। গণমাধ্যম ও ট্রাস্ট একসঙ্গে কাজ করলে সমাজ অবশ্যই উপকৃত হবে।”