
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নির্বাচনের সময় একটি সাধারণ ফরমই হয়ে ওঠে প্রার্থীদের আর্থিক বাস্তবতার সবচেয়ে নীরব দলিল। নাম, পেশা, আয় ও সম্পদের কয়েকটি কলামে ধরা পড়ে রাজনীতির আরেক মুখ—প্রার্থীদের স্ত্রীদের অর্থনৈতিক অবস্থান। বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ঠিক এমনই দুই মেরুর গল্প—কোথাও কোটি টাকার সম্পদ, কোথাও সম্পূর্ণ শূন্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয় আসনে ৪১ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থীর স্ত্রী কোটিপতি। প্রায় কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন আরও দুই প্রার্থীর স্ত্রী। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
কোটিপতি স্ত্রীরা
বরিশাল-৩ আসনের একটি হলফনামায় সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ‘গৃহিনী’ পেশার পাশে লেখা সম্পদের অঙ্ক। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও কারান্তরীণ সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুর স্ত্রী ফাহমিদা কিবরিয়ার নামে জমি, ভবন ও নগদ অর্থ মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি—প্রায় ছয় কোটি টাকা।
এর পরেই আছেন বরিশাল-৫ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার। গৃহিনী ও ব্যবসায়ী পরিচয়ের এই নারীর সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
বরিশাল-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপনের স্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ডালিয়া রহমানের সঞ্চয় দুই কোটি ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৬ টাকা। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আবদুস সোবহানের স্ত্রী, ব্যবসায়ী পারভীন সুলতানার সম্পদ এক কোটি তিন লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৭ টাকা।
প্রায় কোটিপতিরা
কোটির ঘরে পৌঁছাতে অল্প ব্যবধানে রয়েছেন আরও দুই প্রার্থীর স্ত্রী। বরিশাল-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের স্ত্রী সেলিনা হোসেনের সম্পদের পরিমাণ ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৪ টাকা। বরিশাল-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর স্ত্রী নাসিমা আহমেদের সম্পদ ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৫ টাকা।
লাখোপতি স্ত্রীরা
বরিশালের নির্বাচনী মাঠে লাখোপতি স্ত্রীর সংখ্যাও কম নয়। বরিশাল-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলীর গৃহিনী স্ত্রী নাছিমা বেগমের সম্পদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বরিশাল-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল মান্নানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্ত্রী মাহফুজা বেগমের সম্পদ ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী মনিকা আক্তারের সম্পদের পরিমাণ ২৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮৬ টাকা। একই আসনে এবি পার্টির প্রার্থী আসাদুজ্জামান ফুয়াদের স্ত্রী রুমা মারজানের সম্পদ মাত্র দুই লাখ ১৮ হাজার টাকা।
বরিশাল-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলালের শিক্ষিকা স্ত্রী নাঈমা তাহেরার সম্পদের পরিমাণ ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ৪২২ টাকা।
শূন্যের গল্প
তবে সব হলফনামায় অঙ্কের ভিড় নেই। বরিশাল-৪ আসনের একটি হলফনামায় স্ত্রীর সম্পদের ঘরে লেখা রয়েছে ‘প্রযোজ্য নয়’। আরও কিছু হলফনামায় উল্লেখ আছে—‘স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই’। এসব ক্ষেত্রে কাগজে রয়েছে নাম, কিন্তু নেই কোনো অঙ্ক। নেই স্বর্ণালংকার, জমি কিংবা ব্যাংক হিসাব—শুধু একটি ফাঁকা ঘর।
এই হলফনামাগুলো বলছে না, সম্পদের উৎস কী। আইনও সে প্রশ্ন তোলে না। শুধু সংখ্যাগুলো রেখে দেয় ভোটারের সামনে—নীরব সাক্ষ্য হয়ে।