• ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে তরুণকে ডেকে বেধড়ক নির্যাতন, ২১ দিন পর মৃত্যু

Khan Arif
প্রকাশিত নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ১৮:৩১ অপরাহ্ণ
স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে তরুণকে ডেকে বেধড়ক নির্যাতন, ২১ দিন পর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদন,

বরিশালে স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাপস চন্দ্র মন্ডল (৩২) নামে এক যুবককে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। টানা ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে তার মৃত্যু হয়েছে।

তাপস মন্ডল বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মুক্তেশ্বর মন্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদে উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত স্ত্রীকে নিয়ে পরকীয়া সন্দেহ থেকে। স্বপন মন্ডলের স্ত্রীর সাথে তাপসের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে স্বপন ক্ষুব্ধ হন। পরে কৌশলে গত ২৩ অক্টোবর রাতে তাপস মন্ডলকে দাওয়াতের কথা বলে বাড়িতে নিয়ে যান স্বপন।

তাপসের বাবা মুক্তেশ্বর মন্ডল জানান, বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বপন ও তার সহযোগীরা তাপসের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে পানি চাইলে তাকে কীটনাশক পান করানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তাপসের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদারকে খবর দেন। পরে চেয়ারম্যানের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাপসকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার দিবাগত রাত চারটার দিকে তাপসের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ,মুক্তেশ্বর মন্ডল বলেন, “স্বপনের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিল আমার ছেলে। সেখানে নিয়ে তাকে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করেছে। আমরা হত্যা মামলা করব।”

তিনি আরও জানান, পূর্বে সালিশে সমাধানের পর তাপসকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হলেও মাত্র ছয়দিন পর সে দেশে ফিরে আসেন। তাপস দেশে ফেরার খবর পেয়ে স্বপন আবারও তাকে ডেকে নেয়।

অভিযুক্তের বক্তব্য,স্বপন মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাপস বাড়িতে ঢোকার আগেই কীটনাশক পান করেছে। আমরা তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছি।”

মুলাদী থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম সরদার জানান, “২৩ অক্টোবর স্বপনের বাড়ি থেকে গুরুতর অবস্থায় তাপসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছিল।”

তাপস মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....