• ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে আন্তঃজেলা চোরচক্রের সন্দেহভাজন গডফাদার মিলন গ্রেপ্তার, উৎকোচের মাধ্যমে মুক্তির চেষ্টা

Khan Arif
প্রকাশিত নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ১৯:৪৬ অপরাহ্ণ
বরিশালে আন্তঃজেলা চোরচক্রের সন্দেহভাজন গডফাদার মিলন গ্রেপ্তার, উৎকোচের মাধ্যমে মুক্তির চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদন,

বরিশাল শহরে আন্তঃজেলা চোরচক্রের সন্দেহভাজন গডফাদার হিসেবে পরিচিত মিলন ওরফে ‘ভাঙ্গারি মিলন’কে আটক করেছে কোতোয়ালি থানার নানিবুড়ির ফাঁড়ির পুলিশ। শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে চোরাই বলে সন্দেহভাজন একটি সাইকেল উদ্ধার এবং তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চুরি, মাদকসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, মিলন একটি সক্রিয় চোরচক্র পরিচালনা করে আসছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফাঁড়িতে গিয়ে তাদের আটক অবস্থায় পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারের পর সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নতুন অভিযোগ উঠেছে—৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মিলন এবং তার সহযোগীকে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ির কিছু কর্মকর্তা। এ অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—
“যদি পুলিশ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়, তবে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্য কী ছিল? তারা কি নিরপরাধ, নাকি আসলেই অপরাধী—তা তদন্ত ছাড়া কীভাবে বোঝা যাবে?”

পুলিশের একটি অংশ দাবি করছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ না মিললে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে এলাকায় বহুদিন ধরে চলা চুরির ঘটনায় মিলনের নাম আসলেও সঠিক তদন্ত বা বিচার হয়নি—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ঘটনায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধী হলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, আর নিরপরাধ হলে তদন্তের মাধ্যমেই সত্য প্রমাণিত হওয়া উচিত। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে মুক্তির অভিযোগ পুলিশের প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

বরিশালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি।

ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাসিমকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“আমার ফাঁড়িতে তারা আছে। অভিযোগকারী ফাঁড়িতে এসেছিলেন। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।”

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফাঁড়িতে মিলন ও তার সহযোগীকে ছাড়াতে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা এসে হট্টগোল, প্রকাশ্যে গালিগালাজ এবং পুলিশকে উৎকোচ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এ সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও তথ্য-প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....