
নিজস্ব প্রতিবেদন,
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অসামাজিক কার্যক্রমের সময় এক গৃহবধুসহ ধান ব্যবসায়ীকে আটক করে পরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ১নং ব্রীজসংলগ্ন মো. বাবুর ঘরে ৫ শত টাকার বিনিময়ে অসামাজিক কাজে জড়ানোর উদ্দেশ্যে গৌরনদীর ধানডোবা এলাকা থেকে এক গৃহবধুকে ভাড়া করে আনেন বাকাল গ্রামের মৃত নিরাঞ্জন হালদারের ছেলে ধান ব্যবসায়ী সুশীল হালদার (৪৫)। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে গৃহবধুসহ সুশীলকে আটক করে।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা তারেক ফকির, বেলাল ফকিরসহ ১০–১৫ জনের একটি দল ঘটনাটি নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেন। পরে সুশীলকে নগরবাড়ি গ্রামের সেকেন্দার আলী সরদারের ছেলে আশরাফুল আলম আলী সরদারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানায় স্থানীয়রা।
এরপর দুপুরে আলী সরদার, তারেক ফকির ও বেলাল ফকির ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ১নং ব্রীজ এলাকার ব্যবসায়ী হেমায়েত ফকিরের কাছে ৩০ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মোট এক লাখ টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয় এবং টাকা স্থানীয়দের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়। এমনকি মিডিয়া কর্মীদের জন্য দুই হাজার টাকা আলাদা করে রাখা হয় বলেও জানা গেছে।
ব্যবসায়ী হেমায়েত ফকির জানান, “বৃহস্পতিবার দুপুরে তারেক ফকির, বেলাল ফকির ও আলী সরদার আমাকে ডেকে বলেন—এক লাখের পরিবর্তে সুশীল ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। সবাইকে ভাগ করে দিয়ে দুই হাজার টাকা মিডিয়া কর্মীদের জন্য রাখা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় চলছে। তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সুশীল হালদার বর্তমানে পলাতক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমিও শুনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”