নামের সাথে কিছুটা মিল থাকার কারণে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।হয়রানির প্রতিবাদের কারণে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মামলা নিয়েছে পুলিশ।

Khan Arif
প্রকাশিত September 19, 2026, 23:07 PM
নামের সাথে কিছুটা মিল থাকার কারণে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।হয়রানির প্রতিবাদের কারণে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মামলা নিয়েছে পুলিশ।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত মামলায় নামের কিছুটা মিলের কারণে এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে থানায় আটকে হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় সংবাদকর্মী মো. মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠি পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ভুল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে থানায় নেওয়ার বিষয়টি সাংবাদিক মোল্লা শাওন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশের নজরে আনেন এবং ঘটনার প্রতিবাদ করেন। পরে ওই ব্যক্তিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধেই বাদী বানিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠি শাখার একটি ঋণসংক্রান্ত মামলা নিয়ে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা ও মামলার আসামি আজাদ হোসেন, পিতা—মহসিন হাওলাদার, থানা—রাজাপুর। কিন্তু পুলিশ নামের মিলের কারণে আজাদ খান, পিতা—মহসিন খান নামে অন্য এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, আজাদ হোসেন ও আজাদ খান সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। তাদের পিতার নাম, ঠিকানা ও পরিচয়গত তথ্যও আলাদা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হলে বিষয়টি সহজেই নিশ্চিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে আজাদ খানকে প্রায় একদিন একরাত থানায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, আজাদ খান কোনো ঋণ নেননি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের কোনো মামলা নেই। বিষয়টি জানার পর সংবাদকর্মী মো. মোল্লা শাওন ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেন। তিনি মামলার নথি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং ভুক্তভোগীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন।

পরিবারের দাবি, সাংবাদিকের প্রতিবাদ ও তথ্য সংগ্রহের পর পুলিশ আজাদ খানকে ছেড়ে দেয়। তবে এরপরই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে, যে আজাদ খানকে ভুলভাবে থানায় নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে তাকেই মামলার বাদী বানিয়ে সংবাদকর্মী মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কেন থানায় নেওয়া হয়েছিল—সাংবাদিক সেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও ঘটনার তথ্য প্রকাশ ও প্রতিবাদ করায় তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

এ ঘটনায় আরও অভিযোগ উঠেছে, আজাদ খান নিজে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে আগ্রহী ছিলেন না। পরিবারের দাবি, তাকে চাপ প্রয়োগ করে বা পুলিশের প্রভাবে মামলার বাদী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আজাদ খান বলেন আমাকে মিথ্যা ভাবে ফাঁসানোর কারনে আমি অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি উল্লেখিত বিষয় ঝালকাঠি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে জানাতে গেলে এখান থেকে ঝালকাঠি থানার এস আই জালাল সাহেব ঝালকাঠি থানায় আমাকে ডেকে নিয়ে যায় পরে থানায় নিয়ে নাম ঠিকানা যাচাই করে আমার নামে কোন মামলা অথবা অরেঞ্জ ছিল না অহেতুক ভাবে আমাকে এক রাত্র এক দিন আটকিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন করে সাংবাদিক মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে মামলা লেখে স্বাক্ষর দিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয় আমি ওই মামলা এবং ওই দরখাস্ত পড়ার সুযোগও পায়নি আমার নিজের জান বাঁচাতে ওই কাগজের স্বাক্ষর করে থানা থেকে দুদিন পরে বাড়ি এসেছি।

 

 

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঝালকাঠি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা হলেন আজাদ হোসেন, পিতা—মহসিন হাওলাদার এবং তার বিরুদ্ধেই ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আজাদ খান, পিতা—মহসিন খান নামে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যাংক মামলা করেনি এবং আজাদ হোসেন এবং আজাদ খান দুজন ব্যক্তি ভিন্ন আজাদ খানের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই পুলিশ ভুলবশত তাকে গ্রেফতার করেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

 

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি আজাদ খান ব্যাংকের মামলার আসামি না হয়ে থাকেন এবং পরিচয় যাচাইয়ের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাকে পরবর্তীতে কীভাবে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী করা হলো?

স্থানীয়দের মতে, ভুল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে থানায় নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত না করে সেই ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত বলে তারা মনে করেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, ঋণ নিয়েছেন একজন, অথচ হয়রানির শিকার হয়েছেন আরেকজন; আর সেই হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা—পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, ভুল ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি কী পরিস্থিতিতে এবং কার প্রভাবে করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনাটি নিয়ে ঝালকাঠিতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানির প্রতিকার এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....