• ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষের অভিযোগে আগৈলঝাড়ার পিআইও অয়ন সাহা বিতর্কের কেন্দ্রে

Khan Arif
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ১৪:১৪ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষের অভিযোগে আগৈলঝাড়ার পিআইও অয়ন সাহা বিতর্কের কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অয়ন সাহা যেন রূপকথার গল্পের মতো দুর্নীতির বরপুত্র হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রায় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকেই ঘুষ আদায় করেন তিনি, কিন্তু সবসময় থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের হরিসভার নিজ গ্রামের বাড়িতে কোটি টাকা ব্যয়ে তিনতলা ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি।

ফরিদপুরের হরিসভা গ্রামে সরজমিনে গেলে দেখা যায় অয়ন সাহার অভিজাত বাসভবন। স্থানীয়রা জানান, তার বাবা অরূপ কুমার সাহা সীমিত আয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। কিন্তু অয়ন সাহা চাকরিতে যোগ দেয়ার পর হঠাৎ বদলে যায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা।

অভিযোগ রয়েছে, অয়ন সাহা তার পূর্বের কর্মস্থল বরিশালের বানারীপাড়ায় চাকরিকালীন সময়েও কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বানারীপাড়ার উত্তরকুল গ্রামের মোজাম্মেল হক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস এবং বর্তমান কর্মস্থল আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনেও পাঠানো হয়েছে।

বর্তমান কর্মস্থল আগৈলঝাড়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ের টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকল্পেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন—প্রতি প্রকল্প থেকে ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত ‘অফিস খরচ’ নামে টাকা দিতে হয়, নাহলে কোনো বিল পাওয়া যায় না। এমনকি মসজিদ, মন্দির, মাদরাসার বরাদ্দেও তিনি ছাড় দেন না।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পিআইও অয়ন সাহা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। প্রমাণ থাকলে দেখানো হোক।”দুদকের বরিশাল বিভাগীয় উপ-সহকারী পরিচালক সুশান্ত রায় বলেন, “প্রমাণ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন....