ফরিদপুরের হরিসভা গ্রামে সরজমিনে গেলে দেখা যায় অয়ন সাহার অভিজাত বাসভবন। স্থানীয়রা জানান, তার বাবা অরূপ কুমার সাহা সীমিত আয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। কিন্তু অয়ন সাহা চাকরিতে যোগ দেয়ার পর হঠাৎ বদলে যায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা।
অভিযোগ রয়েছে, অয়ন সাহা তার পূর্বের কর্মস্থল বরিশালের বানারীপাড়ায় চাকরিকালীন সময়েও কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বানারীপাড়ার উত্তরকুল গ্রামের মোজাম্মেল হক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস এবং বর্তমান কর্মস্থল আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনেও পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান কর্মস্থল আগৈলঝাড়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ের টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকল্পেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন—প্রতি প্রকল্প থেকে ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত ‘অফিস খরচ’ নামে টাকা দিতে হয়, নাহলে কোনো বিল পাওয়া যায় না। এমনকি মসজিদ, মন্দির, মাদরাসার বরাদ্দেও তিনি ছাড় দেন না।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পিআইও অয়ন সাহা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। প্রমাণ থাকলে দেখানো হোক।”দুদকের বরিশাল বিভাগীয় উপ-সহকারী পরিচালক সুশান্ত রায় বলেন, “প্রমাণ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”