৬ ভবনের সবকটিই ঝুঁকিপূর্ণ

Khan Arif
প্রকাশিত October 20, 2025, 15:43 PM
৬ ভবনের সবকটিই ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন,

 

ভবনটির বিম ও কলামের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। মরিচা ধরা রডগুলো বের হয়ে এসেছে। ভাঙা ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ছে শিক্ষার্থীদের গায়ে। বৃষ্টি এলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। সে সময় ঢেকে রাখতে হয় কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি।

এমন বেহাল আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয়টি ভবনের। মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবনগুলো ৫৮ বছরেও সংস্কার না করায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।

শিক্ষানুরাগী সাবেক এমএলএ মরহুম মফিজ উদ্দিন তালুকদার ১৯৬৫ সালে আমতলী শহরের প্রাণকেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। এটি আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ১৯৬৬ সালে চার কক্ষের একতলা মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এ ভবনে রয়েছে একটি হলরুম, প্রধান শিক্ষকের বসার কক্ষ, অফিস, শিক্ষক মিলনায়তন ও শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভবনটিতে কোনো ধরনের সংস্কার হয়নি। কক্ষগুলোর ছাদে ফাটল ধরে অনেক জায়গা ধসে পড়েছে। বেশির ভাগ দরজা—জানালা ভাঙা। বর্ষায় ছাদ চুয়ে পানি পড়ায় শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাবের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।

মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে ১৯৭২ সালে ২ কক্ষের একটি টিনশেডের ক্লাস রুম নির্মাণ করা হয়। সেটিও ব্যবহারের অনুপযোগী। পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পাশেই দোতলা টিনশেডের বিজ্ঞানাগারটি তালাবদ্ধ। ছাউনির টিন দিয়ে পানি পড়ায় বিজ্ঞানাগারের মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে রয়েছে দুটি ভবন। তিন কক্ষের একটি ভবন ১৯৮৭ সালে নির্মাণ করা হয়। দুই কক্ষের ভবনটি নির্মাণ করা হয় ২০০৪ সালে। পূর্ব পাশের দোতলা পাঁচ কক্ষের ভবনটি ২০০২ সালে তৈরি। সব ভবনই জরাজীর্ণ। তিনটির দেয়াল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা—জানালা খুলে গেছে। মেঝেতে বড় বড় গর্ত। পূর্ব পাশের দোতলা পাঁচ কক্ষের ভবনটিতে নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে এ ভবনের দোতলায় উঠতে চায় না।

প্রধান শিক্ষক এবং নৈশপ্রহরীর জন্য বরাদ্দ দুটি টিনশেডের ঘরও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা নিজেদের টাকায় কোনো রকম ঠিক করে বসবাস করলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েই গেছে। প্রতিষ্ঠানের চারপাশে নেই কোনো সীমানা প্রচীর। অবাধে প্রবেশ করে গবাদি পশু। রাতের বেলায় মাঠে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। শহরের প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় কোনো আড়াল নেই। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় সংকোচ বোধ করে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝিনিয়া আক্তার, লামিয়া নেওয়াজ অর্চি জানায়, ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ, দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়ে। বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। কখন ছাদ ধসে পড়ে, তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়াম আদিবা জানায়, বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বইখাতা, পোশাক ভিজে যায়। ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না।

প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবীর বলেন, ছয়টি ভবনই ব্যবহারের অনুপযোগী। আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার মান কমে যেতে পারে। শিক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গুলোর নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....