
বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি,
বরিশালের ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষক কর্তৃক একই কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজপাড়া ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উর্মি আক্তার (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেছেন—ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক বাদল বিশ্বাস বিভিন্ন সময় তাকে সরাসরি, মোবাইল ফোনে এবং অনলাইনে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামে বসবাসরত ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার কারণে কলেজে অবস্থানকালে প্রভাষক বাদল বিশ্বাস ইনকোর্স পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। এছাড়া বরিশাল শহরে একান্তে দেখা করার জন্য চাপ প্রয়োগ ও ক্লাসে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সামাজিক লজ্জার কারণে বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখলেও সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে অশোভন বার্তা পাঠিয়ে বারবার বিরক্ত করায় গত ৪ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আব্দুল হালিম ও গভর্নিং বডির সভাপতি মেহেরুন্নেসা শিরিন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী উর্মি আক্তার।
অভিযোগ পাওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. গোলাম হোসেন জানান, “অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের সুনামের স্বার্থে সংবাদ প্রকাশে সংযমের আহ্বান জানাই।”
কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আব্দুল হালিম বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আংশিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আপিল করেছেন। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গভর্নিং বডির সভাপতি মেহেরুন্নেসা শিরিন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত শিক্ষক বাদল বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।