
নিজস্ব প্রতিবেদক,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, হামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ডিএমপি কমিশনার জানান, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হান্নান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় শ্রমিক। তার বাবা মো. আবুল কাশেম ও মা মোসা ফুরকোন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হান্নান স্বীকার করেছেন যে, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি তারই। তবে ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। পুলিশ আশঙ্কা করছে, তিনি গুলির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন বা অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন। তাই আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে পল্টন মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তার অবস্থাকে “অত্যন্ত আশঙ্কাজনক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওসমান হাদির ওপর এই হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাতে বিভিন্ন সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ঘটনায় জড়িত সকলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তৎপর রয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।