
নিজস্ব প্রতিবেদক,
বরগুনার পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল ও বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও সমাধান না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংড়া বাজারের পাশে, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া, কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার, বান্ধাঘাটা সহ একাধিক স্থানে হাট-বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া বেড়িবাঁধের ঢালে ভূমিহীনরা ঘর তৈরি করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব স্থাপনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুনকে ‘ম্যানেজ’ করে তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যেক ভবন ও দোকান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা আরও জানিয়েছেন, পাথরঘাটা পৌরশহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুনকে টাকা দিয়ে কাজ করছেন।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বন বিভাগের হাজারো চারা গাছ কেটে ঘর উত্তোলন করা হয়েছে। ঘর তুলতে প্রতি ঘরে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুনকে দিতে হয়েছে।
জাহাঙ্গীর হেসেন বলেন, তার কাছে ২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল, তিনি ৫০ হাজার দিতে চেয়েছিলেন, ঘরে উঠতে পারেননি। পরে এমাদুল গাজী ২ লাখ টাকা দিলে ঘর পেয়েছিলেন।
পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, মামুন বিভিন্ন সময় টাকা দিয়ে সরকারি জমি দখল করিয়েছে। সংরক্ষিত বনায়নের ছোট চারা গাছ কেটে দোকান তোলার প্লট বানিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর বলেন, তিনি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং ঘর উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন। শুনেছি, পাথরঘাটার অনেক স্থানের নিয়ন্ত্রণ তিনি রাখছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুন সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করে অফিস ত্যাগ করেছেন।
বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ আসছে, তবে মামুন যে আমাদের নাম ব্যবহার করে টাকা নিচ্ছে, তা আমরা জানি না। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।