• ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বালাম জালিয়াতি ও ঘুষের বিশাল সিন্ডিকেট: নেপথ্যে কাজী সমিতির নেতা ও জেলা রেজিস্ট্রার!

Khan Arif
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬, ২০:৫০ অপরাহ্ণ
বরিশালে বালাম জালিয়াতি ও ঘুষের বিশাল সিন্ডিকেট: নেপথ্যে কাজী সমিতির নেতা ও জেলা রেজিস্ট্রার!

নিজস্ব প্রতিবেদক,

​বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ঘুষ ও জালিয়াতির চক্র। নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) সমিতির সাধারণ সম্পাদক অলি উল্লাহ্ এবং কাজী ফেরদৌসের নেতৃত্বে এই চক্রটি বালাম জালিয়াতি, কন্টাক্ট ম্যারেজের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং বিদেশগামীদের ফাইল আটকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এই চক্রের সাথে খোদ জেলা রেজিস্ট্রারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে একটি অনুসন্ধানী অভিযানে।
​হাতেনাতে ঘুষের কারবার
​ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে অভিযুক্তরা নগদ অর্থের বিনিময়ে জালিয়াতি করা ম্যারেজ সার্টিফিকেট পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘুষের টাকা প্রদান করা হলে দেখা যায়, অবিশ্বাস্যভাবে রবিবার সেই ত্রুটিপূর্ণ ফাইলটি পাশ হয়ে যায়। ডিজিটাল নথিপত্র বা বালাম বইয়ের তথ্য জালিয়াতি করে এভাবে ফাইল পাশ করিয়ে দেওয়া এখন এই সিন্ডিকেটের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ।
​বিদেশগামীদের জিম্মি করে লক্ষাধিক টাকা আদায়
​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাবিননামা বা ম্যারেজ সার্টিফিকেটে সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছু প্রার্থীদের জিম্মি করা হয়। ফাইল প্রতি ২০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করে এই চক্র। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা বা লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখানো হয়।
​নেপথ্যে জেলা রেজিস্ট্রার?
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন,
​”বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার মোহসিন মিয়া এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমানের মাধ্যমে তিনি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ তোলেন। কেউ প্রতিবাদ করলে সরাসরি লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেন তিনি।”
​অভিযুক্তদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
​জালিয়াতির বিষয়ে অভিযুক্ত মাওলানা ফেরদৌস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ঘুষের বিনিময়ে ফাইল পাশের বিষয়টি মেনে নিলেও তিনি দাবি করেন, ঘুষের টাকা ফেরত পেতে হলে তাদের নেতা অলি উল্লাহকে ধরতে হবে। তবে অলি উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন, যদিও ভিডিও প্রমাণ ও কল রেকর্ডের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
​আইনি পদক্ষেপ
​এই ভয়াবহ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোমবার ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কাজী ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....