• ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুকে কখন কোন টিকা দেবেন

Khan Arif
প্রকাশিত এপ্রিল ১, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
শিশুকে কখন কোন টিকা দেবেন

শিশুদের সময়মতো টিকাদান বা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জন্মের পর থেকে নির্ধারিত বয়সে টিকা নেওয়া শিশুকে ভয়াবহ রোগের হাত থেকে সুরক্ষা দেয় এবং একটি সুস্থ–সবল প্রজন্ম গঠনে সহায়তা করে।

টিকাদানের সময়সূচি
বাংলাদেশে জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে মোট ১০টি রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টিকা ও সময়সূচি হলো:

বিসিজি টিকা – জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যক্ষ্মা প্রতিরোধে দেওয়া হয়।

পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা, ওপিভি ও পিসিভি – ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি, পোলিও ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয়।

ইনজেকটেবল পোলিও (এফআইপিভি) – ৬ ও ১৪ সপ্তাহে দেওয়া হয়।

এমআর টিকা – ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে দুই ডোজ।

টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) – ৯ মাস বয়সে এক ডোজ।

এইচপিভি টিকা – পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী বা ১০–১৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুদের জন্য, জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে।

ধনুষ্টঙ্কার/টিটেনাস টিকা – ১৫–৪৯ বছর বয়সী প্রজননযোগ্য নারীদের জন্য ৫ ডোজ, যা মা ও ভবিষ্যৎ সন্তান দু’জনকেই সুরক্ষা দেয়।

ডোজ মিস হলে করণীয়
যদি কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকা নেওয়া না হয়, তবে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। ডোজ মিস হলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে উঠতে পারে না এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই দেরি হলেও টিকা নেওয়া অপরিহার্য।

বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা
কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য বুস্টার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, ধনুষ্টঙ্কার বা ডিপথেরিয়ার ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করে। সময়সূচি অনুযায়ী টিকা গ্রহণ শিশুকে গুরুতর সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখে এবং দেশের সুস্থ–সবল প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....