• ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্ধ বৃদ্ধকেও ছাড়েননি ইউপি সদস্য মিনারা: ভাতার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অ

Khan Arif
প্রকাশিত এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১৩:০০ অপরাহ্ণ
অন্ধ বৃদ্ধকেও ছাড়েননি ইউপি সদস্য মিনারা: ভাতার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অ

{"data":{"product":"tiktok","editingEffectsList":[],"isSaveLocalReupload":false,"is_default_prop":"MA=="}}

অন্ধ বৃদ্ধও রক্ষা পাননি ইউপি সদস্য মিনারা বেগমের দুর্নীতির হাত থেকে

‎মহিপুর/কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
মোঃ হাসিবুল ইসলাম


‎পটুয়াখালীর মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য মিনারা বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

‎অভিযোগে জানা গেছে, অসহায়, বৃদ্ধ ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও পানির ট্যাংক দেওয়ার কথা বলে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও অনেকেই এসব সুবিধা পাননি।


‎নিজামপুর গ্রামের প্রায় ৮০ বছর বয়সী অন্ধ বৃদ্ধ আঃ গনি খাঁ জানান, বহুদিন আগে তার নাম নেওয়া হলেও এখনো কোনো ভাতা পাননি। তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, বয়স্ক ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে দেড় হাজার টাকা দাবি করা হয়। এক হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাদের নামে কোনো কার্ড হয়নি।

‎একই গ্রামের আকিমুন বেগম বলেন, বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি এখনো কোনো ভাতা পাননি। টাকা ফেরত চাইলে তা-ও দেওয়া হয়নি।

‎অসহায় জাহেদা খাতুন অভিযোগ করেন, বিধবা ভাতা পেতে তার কাছে দুই হাজার টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে ভাতার আওতায় আনা হয়নি। বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

‎সরেজমিনে জানা যায়, একই গ্রামের এখলাস ফকিরকে অভিযুক্ত মিনারা বেগম বলেন, তার স্ত্রী বয়স্ক ভাতা পেতে চাইলে দুই হাজার টাকা দিতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও সতর্ক করেন।

‎এলাকাবাসীর দাবি, মিনারা বেগম শুধু ভাতা নয়, বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী—যেমন পানির ট্যাংক, টিউবওয়েল, পাকা টয়লেট দেওয়ার নামেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মিনারা বেগম মুঠোফোনে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


‎অভিযোগের বিষয়ে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. ফজলু গাজী জানান, এখন পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....