{"data":{"product":"tiktok","editingEffectsList":[],"isSaveLocalReupload":false,"is_default_prop":"MA=="}}

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ রাতে সাগরে ফিরছে জেলেরা: ভরসা ইলিশের ঝাঁক, আছে শঙ্কাও
মোঃ হাসিবুল ইসলাম
মহিপুর /কুয়াকাটা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর উপকূলে আজ যেন এক অন্যরকম উত্তেজনা। গত ৫৮ দিন যে সাগর ছিল একদম নিস্তব্ধ, আজ মধ্যরাতের পর থেকে সেই সাগরই আবার মুখর হয়ে উঠবে হাজারো জেলের হাঁকডাকে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে উপকূলের মৎস্য পল্লীগুলোতে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলেরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জীবিকার মূল উৎস সাগরে ফিরে যাওয়ার।
মহিপুর, আলীপুর আর কুয়াকাটার মৎস্য ঘাটগুলোতে তাকালেই চোখে পড়ে এক মহাব্যস্ততার চিত্র। দীর্ঘদিন ঘাটে অলস পড়ে থাকা ট্রলারগুলোকে ঘিরে চলছে ধোয়ামোছা ও মেরামতের কাজ। কেউ তুলিতে রং করছেন, কেউ জাল সেলাইয়ে ব্যস্ত, আবার কেউবা সাগরে দীর্ঘ সময়ের জন্য রসদ তুলছেন ট্রলারে। কারো চোখে ক্লান্তি থাকলেও মনের মধ্যে রয়েছে প্রচুর মাছ পাওয়ার স্বপ্ন। যেন সাগরে মাছ ধরার প্রতিটি মুহূর্ত তাদের রক্তে মিশে আছে।
এত সব প্রস্তুতির মাঝেও জেলেদের মনে চাপা ক্ষোভ আর দুশ্চিন্তার রেখা। তাদের দাবি, যখন তারা সরকারি নিয়ম মেনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলেন, ঠিক তখনই কিছু অসাধু চক্র সাগরে অবৈধ ট্রলিং চালিয়ে জাটকা ও রেণুপোনা নিধন করেছে। এর ফলে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। জেলেরা বলছেন, “আমরা নিয়ম মানলাম, কিন্তু অসাধুরা যদি সাগরে নির্বিচারে মাছ ধরে ফেলে, তবে আমাদের এই ত্যাগের কোনো মূল্য থাকে না।” ভবিষ্যতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বৃদ্ধির দাবি তাদের কন্ঠে স্পষ্ট।
সব শঙ্কা কাটিয়ে আশার কথাই শোনাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য আড়ৎ সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলু গাজী জানান, জেলেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন। স্থানীয় প্রশাসনের আশা, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে পালিত হওয়ায় সাগরে ইলিশের বিচরণ অনেক বেড়েছে।
এখন কেবল রাত ১২টা বাজার অপেক্ষা। পটুয়াখালীর উপকূলের হাজারো জেলের স্বপ্নগুলো জাল হয়ে নামবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির গভীরে। তাদের এবারের যাত্রা হোক নিরাপদ এবং মাছের প্রাচুর্যে ভরা—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “জেলেরা সরকারি আদেশ মান্য করে যে সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তার সুফল তারা অবশ্যই পাবেন। সাগরের পরিবেশ এখন মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল। আমরা আশা করছি, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।”