
বিশেষ প্রতিনিধি:
মা ইলিশ সংরক্ষণের ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে না হতেই বরিশাল শহরের পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে নেমে এসেছে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ডিমওয়ালা ইলিশের ঢল। অবরোধ উঠে যাওয়ার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পচা ও কোল্ড স্টোরেজে বরফচাপা দিয়ে রাখা ডিমওয়ালা ইলিশ বাজারে চলে আসায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী ও সাগরে অভিযানের পেছনে সরকারি কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ এবং কঠোর নজরদারির পর কীভাবে অসাধু চক্র এই মাছ শিকার এবং মজুদ করলো—এখন বরিশালবাসীর মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন।
অবৈধ শিকার ও বিশাল স্টকিং:
স্থানীয় ক্রেতা ও সচেতন নাগরিকদের মতে, মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাজারগুলোতে শত শত মন মা ইলিশ আসা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়েই একশ্রেণীর অসাধু জেলে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ নিধন করেছে এবং নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গোপন আস্তানা, বরফকল ও হিমাগারে তা মজুদ (স্টক) করে রেখেছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই দ্রুত তা বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতদিন বরফ কিংবা সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে মাছগুলোর বড় অংশই পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশ্নের মুখে অভিযানের কার্যকারিতা:
মা ইলিশ রক্ষা ও প্রজনন নিরাপদ করতে প্রতি বছরই সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে দিয়ে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেওয়া হয় প্রচুর সরকারি বরাদ্দ ও নৌযান জ্বালানি। এর পরও কীভাবে অসাধু চক্র অবাধে নদীতে নেমে ডিমওয়ালা মাছ নিধন করলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদারকি ও নজরদারিতে কোথাও বড় ধরনের গাফিলতি ছিল, যার সুযোগ নিয়েছে সুযোগসন্ধানী সিন্ডিকেট।
নেপথ্যে কারা?
বরিশালের সাধারণ জনগণের এখন একটাই দাবি—এই মা ইলিশ নিধন ও অবৈধ মজুদের পেছনে কারা জড়িত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক। কাদের ইন্ধনে ও মদদে অসাধু জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে নামার দুঃসাহস পেল এবং কোথায় এই মাছ বরফজাত করে রাখা হয়েছিল, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন বরিশালবাসী, যাতে ভবিষ্যতে দেশের এই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সরকারি প্রচেষ্টা ভেস্তে না যায়।