
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: রাজশাহীর মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার সীমান্তবর্তী গনিপুর ইউনিয়নের আচিনঘাটে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী সাহেব আলীর হাটু ও পায়ে পেরেক পুতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাহবুব রহমানের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে সাহেব আলীর দুই পা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকাল ৯ টার দিকে আচিনঘাট গ্রামের সাহেব আলীর নিজ আম-লিচুর বাগানে এ অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আহত সাহেব আলী আচিনঘাট গ্রামের মৃত লবিণ প্রামাণিকের ছেলে। আহত সাহেব আলীর পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাহবুব রহমান আওয়ামী লীগের ৭/৮ জন সন্ত্রাসী নিয়ে সাহেব আলীর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে।
সাহেব আলীর ছেলে মৃদুল হাসান জানান, আমার বাবা বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী। গত ৫ আগস্ট পূর্বে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের হাতে আটক হয়ে বেশকিছু দিন কারাভোগ করেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন একাধিকবার।
মৃদুল জানান, আমাদের আম ও লিচু বাগানের বসে থাকা অবস্থায় জামাত নেতা মাহবুব রহমান ও তার ভাড়াটে পার্শ্ববর্তী নামাজগ্রামের কতিপয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শরীরে হাতুড়ি দিয়ে পেরেক পুতে নির্যাতন করে। তারা আমার বাবার দুই পা ভেঙ্গে দেয়। এসময় বাবার আত্ম-চিৎকারে আমরা দৌড়ে গিয়ে আমার বাবাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেকে) ভর্তি করায়। তিনি জানান, বাবার চিকিৎসা শেষে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
এদিকে, আহত সাহেব আলীর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেন গণিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাহবুব রহমান। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, সাহেব আলী গত ঈদের আগে গ্রামের মোড়ে সন্ধ্যার সময় আমার ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। মারপিট করে। সে একজন মাদকাসক্ত। বাগান পাহারার আড়ালে সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন করে। বহিরাগত মাদক সেবিরা এসে বাগানে আড্ডা জমিয়ে মাদক সেবন করে। তাকে মাদক সেবনে বাঁধা দিলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা করে। সেসময় আশেপাশে লোকজন এসে তাকে মারপিট করে। জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে এড়িয়ে যান।
ঐ গ্রামের স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা সময়ের আলোকে জানান, পুকুরের পাড় ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন জামায়াত নেতা মাহবুব রহমান ও সাহেব আলীর মধ্যে বেশকিছু দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। জামায়াত নেতা মাহবুব রহমানের মালিকানাধীন পুকুরে সাহেব আলীর ভিটা জমির অনেকখানি পাড় ভেঙ্গে ঢুকে যায়। সাহেব আলীর পাড় বেঁধে চাইলে উভয়ের মধ্যে ঝামেলা বাঁধে। গত তিন বছর পূর্বে স্থানীয় এক মীমাংসায় পাড় বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিন বছর পার হলেও সায়েব আলীর ভিটা জমির পাড় বেঁধে না দেয়ায় ঈদের আগে জামায়াত নেতাকে পাড় বেঁধে দেয়ার চাপ দেয় সায়েব আলী। এরই জেরে জামায়াত নেতা মাহবুব রহমান আওয়ামী সন্ত্রাসী দিয়ে সায়েব আলীকে উপর্যুপরি পিটিয়ে আহত করে।
গণিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল মৃধা জানান, সাহেব আলী বিএনপির একজন নির্যাতিত ও একনিষ্ঠ কর্মী। তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার দুই হাঁটুতে ও পায়ে পেরেক পুতে নির্যাতন করা হয়েছে। ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাহবুব রহমান ও আওয়ামী লীগের কতিপয় দোসর সাহেব আলীকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। আমরা গণিপুর ইউনিয়ন বিএনপি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।