• ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতিনিধির সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ওএমএস ডিলারের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন

Khan Arif
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২৫, ১৬:১৭ অপরাহ্ণ
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতিনিধির সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ওএমএস ডিলারের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি গ্যারেজ এলাকায় ওএমএস (খোলা বাজার বিক্রয়) ডিলার ওবায়দুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছেন এবং নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

ভুক্তভোগী মো: সাখাওয়াত হুসাইন দাবি করেছেন, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, সকাল ১০:৩০টার দিকে তিনি তার মানসিক প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জন্য সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর-নিবন্ধিত পরিচয়পত্র সহ ওএমএস ডিলারের দোকানে যান। তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার অনুরোধ করলে ডিলার তাকে অসদাচরণ করেন এবং পরিচয়পত্রের কপি নষ্ট করে দেন। এছাড়া, দোকানের অন্যান্য কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি অপমানজনক মন্তব্যের সম্মুখীন হন।

এক পর্যায়ে ডিলার ও তার সহযোগী সিদ্দীক প্রতিবন্ধী ভাইকে জাগিয়ে নিয়ে সমাজকল্যাণ অফিসে গিয়ে চাল, আটা নেওয়ার জন্য জোর তাগিদ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত ডিলার ও তার সহযোগীরা: দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে অসহায় মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। দুজন ভুক্তভোগী নাম গোপন রাখার স্বার্থে ডিলার সোহাগের ও এম এস নিয়ে পুকুর চুরির ও দুর্নীতির বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগঘন অবস্থায় কেঁদে ফেলেন। ওএমএস পণ্য বাজারে বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জন করেন।

স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মো:সাখাওয়াত হুসাইন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। মোঃ সাখাওয়াত হুসাইন বলেন, “প্রতিবন্ধী ভাইয়ের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় আমি হেনস্তার শিকার হয়েছি, কিন্তু এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আমরা চাই, এই ডিলারশিপের বিষয়ে তদন্ত হোক এবং সুষ্ঠু সমাধান আসুক।” স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ডিলারশিপের দায়িত্ব প্রদান করা হোক, যাতে ওএমএস কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর থাকে। প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? খাদ্য নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার প্রশ্নে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে যথাযথ পদক্ষেপের আশা করছে স্থানীয় জনগণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....