১১ বছরের শিশু যুবায়ের হত্যা মামলায় ঘাতক আনসার ড্রাইভার সিরাজের জামিন নামঞ্জুর, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

Khan Arif
প্রকাশিত June 18, 2026, 12:55 PM
১১ বছরের শিশু যুবায়ের হত্যা মামলায় ঘাতক আনসার ড্রাইভার সিরাজের জামিন নামঞ্জুর, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

{"data":{"product":"tiktok","editingEffectsList":[],"isSaveLocalReupload":false,"is_default_prop":"MA=="}}

নিজস্ব প্রতিবেদক:
১১ বছরের শিশু যুবায়েরকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আনসার ড্রাইভার সিরাজের জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তে নিহত শিশু যুবায়েরের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দেশে বিভিন্ন হত্যা মামলায় আদালত জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।

বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় ঝালকাঠি মহাসড়কে আনসার বাহিনীর একটি গাড়ির ধাক্কায় ১১ বছর বয়সী এক মেধাবী শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার মা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো বিচারিক অগ্রগতি তারা দেখতে পাননি।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে রুপাতলী এলাকায় ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের বাংলাদেশ বেতার রেডিও সেন্টার ও র্যাব-৮ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে বলা হয়, আনসার বাহিনীর একটি গাড়ি, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর “ঢাকা মেট্রো-উ-১১-৭৬৩৭”, বেপরোয়া গতিতে চলাচলকালে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিরাজুল ইসলাম (৫৮) নামে এক চালক। মোটরসাইকেলে থাকা ১১ বছর বয়সী এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। একই সঙ্গে শিশুটির মা (৩৫) গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেল চালকও আহত হন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কিংবা ন্যায়বিচার পাননি তারা।

বিষয়টি আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃন্দদেরকে জানানো হলে তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যান, এমনকি আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তারা দীর্ঘ তিন মাস সময় নষ্ট করেছেন, ভুক্তভোগী অবশেষে তিনি সাংবাদিকদের কে জানান তারা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন তিন মাস যাবত। ভুক্তভোগী আরো জানান কিছুদিন যাব তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যাতে মামলা নিষ্পত্তি হয় সে ব্যাপারে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী জানান, এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে একটি জিডি করেন ভুক্তভোগী।
উক্ত বিষয়ে সাংবাদিকরা সিরাজুল ইসলামকে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে সঠিক কোন উত্তর না দিয়ে তিনি উল্টো রাগ দেখিয়ে সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। সাংবাদিকরা আনসার বাহিনীর উদ্বোধন কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যান। অথচ জানা গেছে তিনি ডিউটি রত অবস্থায় সরকারি গাড়িতে অ্যাক্সিডেন্টে ঘটায়। সেখানে আনসার বাহিনীর উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের কোন দায়ভার নেই বলেও তারা দাবি করেন। ভুক্তভোগীর দাবি এটি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ড্রাইভারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আরো জানিয়েছেন তিনি শোকাহত থাকা অবস্থায় জোর করে তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন আনসার বাহিনী সদস্যরা, তারপর থেকে তার সাথে কোন ধরনের কোন সদাচারণ করেনি আনসার বাহিনী ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম। রীতিমতো হুমকিও ভয় দেখিয়ে স্বার্থ হাসিল করে নিতে চাচ্ছেন আনসার ড্রাইভার। বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করার জন্য যাতে ভুক্তভোগী সুষ্ঠু বিচার পান সে বিষয়ে ভুক্তভোগীর আবেদন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, সড়কে দায়িত্বশীল বাহিনীর যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছে, “আমরা শুধু সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ চলে গেছে, একজন মা আজও কষ্টে আছেন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাইনি।”

নিহত যুবায়েরের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ট্রাক চালিয়ে আনসার ড্রাইভার সিরাজ তাদের আদরের সন্তানকে হত্যা করেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার আজও শোকাহত। তারা দাবি করেন, অভিযুক্ত সিরাজ জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বলেন, শিশু হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তারা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে ঘাতক সিরাজের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

নিহত যুবায়েরের স্বজনরা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে আর ফিরে পাব না। তবে আমরা চাই ঘাতক সিরাজ যেন কোনোভাবেই জামিনে বের হতে না পারে এবং আদালতের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি পায়।”
মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও শিশু যুবায়ের হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন সবার নজর।

সংবাদটি শেয়ার করুন....