
স্টাফ রিপোর্টার,
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় একটি বাল্যবিবাহের আয়োজন ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোঃ আরিফুর রহমান সিকদার-এর সঙ্গে মোসাঃ আইরিন আক্তার ইসা-র বিবাহ-পরবর্তী বৌ-ভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আজ। অভিযোগের খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে কনের নানা আবুলের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, আইরিনের বয়স বর্তমানে ১৭ বছর এবং সে স্থানীয় নব আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন ছাত্রী। এ সময় ঘটনা ধামাচাপা দিতে বারবার অনুরোধ করেন সরেজমিনে আসা সাংবাদিক পরিচয়ধারী প্রতারক হেলাল। তিনি নিজেকে জাতীয় দৈনিক ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিলেও অনুসন্ধানে তার পরিচয় মিথ্যা প্রমাণিত হয়। যায়যায়দিন-এর বরিশাল অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই নামে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই।
স্থানীয়দের দাবি, কনের বয়স আইনসম্মত কি না—সে বিষয়ে যথাযথ যাচাই না করেই এই আয়োজন করা হয়েছে, যা ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর পরিপন্থী।
এই ঘটনায় সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, বাল্যবিবাহে জড়িত অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট কাজী কিংবা সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত যাচাই ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।