
নিজস্ব প্রতিবেদক,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বরিশালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পুরো জেলাজুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে প্রশাসন। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলাজুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য সক্রিয় থাকবেন।
গত সোমবার বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের এক সমন্বয় সভায় এই বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হয়। সভায় জানানো হয়, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র্যাবের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় জেলা পুলিশের একটি বড় অংশ সরাসরি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে দুইজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় ১ হাজার ২৮৫ জন সদস্য ১৯৯টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। আধুনিক নজরদারির অংশ হিসেবে দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য ১০৩টি বডি অন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় জনবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে আনসার ও ভিডিপি বাহিনী। জেলার মোট ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার সদস্য ভোটের দিন মাঠে থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র সদস্যসহ মোট ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যেখানে নারী ও পুরুষ উভয় বাহিনীর সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভোটের মাঠে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকবে দৃশ্যমান। বরিশাল জেলায় এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করবেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য থাকবে একটি করে সেনা পেট্রোল টিম। এছাড়া বিজিবির ১৪টি প্লাটুন জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচটি এবং বাকি নয়টি উপজেলায় নয়টি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি র্যাবের ছয়টি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে।
নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় বরিশালের জলপথেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’ নদীপথে টহল দেবে, যেখানে প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক থাকবেন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া নদীঘেঁষা আটটি ভোটকেন্দ্রের বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে নৌ পুলিশ।
বরিশাল জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।