
নিজস্ব প্রতিবেদন,
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি এখন নিজেই চরম জনবল সংকটে “অসুস্থ” হয়ে পড়েছে। মাত্র তিনজন চিকিৎসক নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
২০০৮ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেবার মান তেমন উন্নত হয়নি। বরিশাল বিভাগের চরাঞ্চলবেষ্টিত এই দরিদ্র উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এখন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুমোদিত হলেও এখনো ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ২২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত মাত্র ৩ জন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২২ জন।
সরঞ্জাম সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পাঁচ বছর ধরে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন অকেজো, এক্স—রে মেশিন বিকল, অপারেশন থিয়েটারও কার্যত বন্ধ। পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা—নিরীক্ষার জন্য যেতে হচ্ছে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, এতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মইনুল ইসলাম বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে এখানে চিকিৎসকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যা খুবই কম। পাশাপাশি টেকনিশিয়ানের ঘাটতিও আছে। বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন,“জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতা আর জনবল সংকটের কারণে সরকারি হাসপাতালটি এখন রোগীদের পরিবর্তে “অসুস্থ” হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালটির সেবা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।